৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৭০ ফুটের ব্রিজ তৈরি বন্যা বিধ্বস্ত সিকিমে কামাল করল ভারতীয় সেনা

27th June 2024 8:47 pm Country News
৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৭০ ফুটের ব্রিজ তৈরি বন্যা বিধ্বস্ত সিকিমে কামাল করল ভারতীয় সেনা


প্রবল বৃষ্টি, তার সঙ্গে বন্যা। পরিস্থিতি একদমই ভাল নয় সিকিমের। জায়গায় জায়গায় ধস নেমেছে, সড়কপথ ক্ষতিগ্রস্ত। সেই কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছিল। এই অবস্থায় ভারতীয় সেনা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্রিজ তৈরি করল।৭০ ফুটের এই সেতু তৈরি করতে তারা সময় নিল মাত্র ৭২ ঘণ্টা।একনাগাড়ে বৃষ্টির জন্য উত্তর সিকিমের একেবারে লন্ডভন্ড অবস্থা। ডিকচু থেকে শুরু করে লাচুং, লাচেন, চুংথাম সহ বহু জায়গায় বেশিরভাগ রাস্তায় ধস নামার কারণ সাধারণ জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। পর্যটকরাও সমস্যায় পড়েন কারণ তাঁরা আর ফিরতে পারছিলেন না। বলা যায়, উত্তর সিকিম এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছিল। এই সমস্যার সমাধানে আসরে নেমেছিল ভারতীয় সেনা।ত্রিশক্তি কর্পসের সেনা ইঞ্জিনিয়াররা গ্যাংটকের ডিকচু-সাঙলাং রোডে একটি ৭০ ফুটের ব্রিজ তৈরি করেছে। আর ব্রিজ তৈরিতে তারা সময় নিয়েছে মাত্র তিনদিন অর্থাৎ ৭২ ঘণ্টা। গুয়াহাটির ডিফেন্স পিআরও জানিয়েছেন, ২৩ জুন এই ব্রিজ নির্মাণ শুরু হয়েছিল। বৃহস্পতিবারই তা শেষ হয়েছে। তবে সেনার এই ধরনের কীর্তি নতুন কিছু নয়। এর আগে ত্রিশক্তি কর্পসই সীমান্তের গ্রামগুলির সঙ্গে উত্তর সিকিমের যোগোযোগ বজায় রাখার জন্য ১৫০ ফুটের সাসপেনশন ব্রিজ তৈরি করেছিল।গত ১১ জুন থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে সিকিমে। মূলত উত্তর সিকিম লাগাতার বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত। এই কারণে সেখানে আটকে পড়েছিলেন বহু পর্যটক। যদিও গত ১৯ জুন লাচুং থেকে প্রায় ১১৭৮ জন পর্যটককে উদ্ধার করেছে সিকিম প্রশাসন। এছাড়াও উত্তর সিকিমের অন্যান্য জায়গা থেকেও পর্যটকের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।বিপর্যয়ের জেরে সিকিমের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সড়কপথের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়েছে। একাধিক জায়গায় বড় বড় পাথর ধসে পড়ায় রাস্তার বেশিরভাগ অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রশাসনের আশা, আবহাওয়ার একটু উন্নতি হলেই সব পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।