প্রথমবারের মতো সুইসাইড ক্যাপসুল চালু করছে সুইজারল্যান্ড কি আছে এতে?

19th July 2024 8:14 am Country News
প্রথমবারের মতো সুইসাইড ক্যাপসুল চালু করছে সুইজারল্যান্ড কি আছে এতে?


আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যারা স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি পেয়েছেন, তাদের জন্য সুসংবাদ। এই প্রথমবারের মতো দেশটিতে পুরোদমে চালু হতে যাচ্ছে 'সুইসাইড ক্যাপসুল' বা সারকো ক্যাপসুল।স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতিপ্রাপ্তদের সহযোগিতা প্রদানকারী সংস্থা দ্য লাস্ট রিসোর্ট অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তারা এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তারা বলেছেন, আর বড়জোর এক কিংবা দু'মাসের মধ্যে সহজে বহনযোগ্য এই যন্ত্রটির ব্যবহার শুরু হবে সুইজারল্যান্ডে।খানিকটা ছোটো আকারের নভোযানের মতো দেখতে এই সারকো ক্যাপসুল । 'সারকো' শব্দটি মূলত ইংরেজি সারকোফ্যাগাসের সংক্ষিপ্ত রূপ, যার বাংলা অর্থ শবাধার। সুইজারল্যান্ডের 'ডক্টর ডেথ' নামে বিখ্যাত চিকিৎসক এবং অ্যানাসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ ফিলিপ নিৎশে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো সহজে পরিবহনযোগ্য এই ক্যাপসুলটি তৈরি করেন। তবে তিনি তা প্রকাশ্যে আনেন আরও ২ বছর পর, ২০১৯ সালে।স্বেচ্ছামৃত্যু বরণে ইচ্ছুক ব্যক্তি এই ক্যাপসুলে প্রবেশের পর প্রথমে সেটির ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারপর ওই ব্যক্তির নিঃশ্বাসের জন্য ক্যাসুলের ভেতরে নিঃসৃত হতে থাকবে নাইট্রোজেন গ্যাসে পরিপূর্ণ একপ্রকার বিশেষ বাতাস। সেই বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার এক মিনিটের মধ্যে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু ঘটবে ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা ব্যক্তির।ড. ফিলিপ নিৎশের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় স্বেচ্ছামৃত্যু বরণে ইচ্ছুক ব্যক্তি শিগগিরই ঘুমিয়ে পড়বেন এবং সম্পূর্ণ বিনা কষ্টে, ঘুমের মধ্যেই তার প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাবে।প্রসঙ্গত, অনুমোদিত চিকিৎসাকর্মীর সহায়তা নিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশেই বৈধ। সেসব দেশের মধ্যে সামনের সারিতেই রয়েছে সুইজারল্যান্ড। ২০২০ সালে দেশটিতে অন্তত ১,৩০০ মানুষ 'সহায়তাকৃত আত্মহত্যা'-র পথ বেছে নিয়েছেন।২০২১ সালের ডিসেম্বরে স্বেচ্ছামৃত্যুতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য সারকো ক্যাপসুল ব্যবহারের অনুমোদন দেয় সুইজারল্যান্ডের সরকার। তবে ব্যক্তিগতভাবে এই যন্ত্র ক্রয়ের অনুমতি এখনও দেওয়া হয়নি। কয়েকটি সংস্থাকে এই যন্ত্র ক্রয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, দ্য লাস্ট রিসোর্ট অর্গানাইজেশন সেগুলোর মধ্যে একটি। 





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।