হঠাৎ করেই পরিমাণের চেয়ে বেশি ঋতুস্রাব হচ্ছে? মেনোরেজিয়ায় ভুগছেন না তো আপনি?

19th July 2024 8:16 am Country News
হঠাৎ করেই পরিমাণের চেয়ে বেশি ঋতুস্রাব হচ্ছে? মেনোরেজিয়ায় ভুগছেন না তো আপনি?


নিয়মিত ঋতুস্রাব একটি সাধারণ সমস্যা। তবে অতিরিক্ত ঋতুস্রাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। স্বাভাবিক ঋতুস্রাবের পরিমাণ প্রতিটি ঋতুচক্রে গড়ে ৩০-৪০ মিলিলিটার। কিন্তু যখন ৮০ মিলিলিটার বা তার বেশি রক্তপাত হয় তখনই তাকে অতিরিক্ত ঋতুস্রাব বা হেভি মেনস্ট্রুয়াল ব্লিডিং বলা হয়।লক্ষণ

অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের লক্ষণগুলি হল:ঋতুকালীন সময় প্রতি ২-২.৫ ঘন্টায় ন্যাপকিন বা টিস্যু পরিবর্তন করতে হয়

ঋতুকালীন সময় রক্তপাতের পরিমাণ এত বেশি হয় যে তাতে ভেজা জামাকাপড় পরিবর্তন করতে হয়

ঋতুকালীন সময় রক্তপাতের সঙ্গে জমাট রক্ত বা গুঁড়ো রক্ত বের হয়

ঋতুকালীন সময় রক্তপাতের সঙ্গে তলপেটে ব্যথা বা অস্বস্তি হয়

ঋতুকালীন সময় রক্তপাতের সঙ্গে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট হয়

কারণ

অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের অনেকগুলি কারণ হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

হরমোনের তারতম্য: ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হতে পারে। এই হরমোনের ভারসাম্যহীনতা হতে পারে গর্ভধারণ, স্তন্যদান, মেনোপজ, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিসিওএস), থাইরয়েডের সমস্যা, ইত্যাদি কারণে।

জরায়ুর সমস্যা: জরায়ুর টিউমার, এন্ডোমেট্রিওসিস, জরায়ুর ক্যান্সার, ইত্যাদি কারণে অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হতে পারে।

রক্তের সমস্যা: রক্তের রোগ যেমন অ্যানিমিয়া, রক্তরোগ, ইত্যাদি কারণেও অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হতে পারে।

অন্যান্য কারণ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ব্যায়াম, ইত্যাদি কারণেও অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হতে পারে।

প্রতিকার

অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের কারণ নির্ণয় করে তার চিকিৎসা করা হলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসা

অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের চিকিৎসায় নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে:

হরমোন থেরাপি: হরমোন থেরাপির মাধ্যমে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা হয়।

ওষুধপত্র: কিছু ওষুধের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋতুস্রাব কমানো যায়।

 





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।