প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং প্রয়াত: ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের স্থপতি চিরবিদায় নিলেন

27th December 2024 10:41 am Country News
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং প্রয়াত: ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের স্থপতি চিরবিদায় নিলেন


প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং-এর মৃত্যু: ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রদূত চিরবিদায় নিলেন

ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং (১৯৩২-২০২৪) ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে দিল্লিতে মারা গেছেন। ১৯৯১ সালের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক সংস্কারের স্থপতি এবং দুইবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন।

ডঃ সিং ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তার নেতৃত্বে দেশ এক নতুন অর্থনৈতিক দিগন্তে পৌঁছেছিল। ১৯৯১ সালে তার নেতৃত্বে ভারতের অর্থনীতি উদারীকরণের পথে এগিয়ে যায়, যা দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল। তার প্রজ্ঞা এবং সততার জন্য তিনি দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হন।

ডঃ মনমোহন সিং-এর মৃত্যুর খবর শোনার পর, রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তিত্বরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ডঃ সিংয়ের সাথে কাজ করেছেন, এক শোকবার্তায় বলেন, "আমি একজন পরামর্শদাতা এবং গাইডকে হারিয়েছি।" তিনি আরও বলেন, "ডঃ মনমোহন সিং অপরিসীম প্রজ্ঞা এবং সততার সাথে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নম্রতা এবং অর্থনীতির গভীর উপলব্ধি জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে।"

ডঃ সিং-এর মৃত্যুতে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাকে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তার অবদানকে স্মরণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার পরিবার এবং আত্মীয়দের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

ডঃ মনমোহন সিং ১৯৩২ সালে পাঞ্জাবের গোধরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডক্টরেট করেন। তার রাজনীতিতে প্রবেশের পর, তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, যার মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর, এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে তিনি দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন।

তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে দেশ হারাল এক মহান নেতা, যিনি তার জীবনে কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।