সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার ঠিক আগেই পেশ হওয়া কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। গতকাল সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের সময় পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিল্পোন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রের এই ঘোষণাকে ‘ভোটমুখী জুমলা’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
বাজেটে বাংলার প্রাপ্তি: কী কী ঘোষণা?
অর্থমন্ত্রীর বাজেট ভাষণে পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের (‘পূর্বোদয়’) ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বাংলার জন্য প্রধান ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে:
-
ডানকুনি-সুরাত পণ্যবাহী করিডর: পশ্চিমবঙ্গের ডানকুনি থেকে গুজরাটের সুরাত পর্যন্ত একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (Dedicated Freight Corridor) তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি রাজ্যের লজিস্টিক ও পরিবহন শিল্পের জন্য গেম-চেঞ্জার হতে পারে।
-
বেনারস-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল: উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত করতে বেনারস থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত হাই-স্পিড রেল করিডর তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে।
-
দুর্গাপুর শিল্প করিডর: ইস্ট-কোস্ট ইকোনমিক করিডরের অংশ হিসেবে দুর্গাপুরে একটি নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল নোড বা শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: রাজ্যের ক্ষোভ বনাম কেন্দ্রের দাবি
বাজেট ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বাজেটকে ‘দিশাহীন’ ও ‘জনবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এই বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই। ডানকুনি করিডরের কথা আমি রেলমন্ত্রী থাকাকালীনই বলেছিলাম, এটা নতুন কিছু নয়। নির্বাচনের আগে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।” তৃণমূলের অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজ বা আবাস যোজনা নিয়ে রাজ্যের বকেয়া টাকার বিষয়ে বাজেটে কোনও স্পষ্ট উল্লেখ নেই।
অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতে, “এই বাজেট পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নে নতুন জোয়ার আনবে। ডানকুনি ও দুর্গাপুরের প্রকল্পগুলি রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করবে।”
আজ থেকে শুরু মাধ্যমিক পরীক্ষা
বাজেট রাজনীতির উত্তাপের মধ্যেই আজ, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। এবছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পর্ষদের তরফে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে ১৪৪ ধারা জারি রাখা হয়েছে এবং প্রশ্নফাঁস রুখতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ইন্টারনেট পরিষেবায় নজরদারি চালানো হচ্ছে।