যাদবপুরের ছাত্রদের জন্য ছাত্রাবাস আলাদা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল ইসির বৈঠকে। প্রথম বর্ষের জন্য আলাদা হস্টেল। এবং অন্যান্য বর্ষের জন্যও আলাদা আলাদা হস্টেল করার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু ছাত্ররাই তা চাইছেন না বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। তিনি বলেছেন, ‘‘উল্টে ওরা বলেছে হস্টেলের প্রতি ব্লক থেকে এক জন করে ছাত্র প্রতিনিধি রাখা হোক ইসিতে। ভাবুন তো। সেটা করলে কতজন ছাত্র প্রতিনিধি রাখতে হবে! সংখ্যাটা অন্তত ১৮ জনে গিয়ে দাঁড়াবে। আর ইসির মোট আসন সংখ্যাও ওরই কাছাকাছি। তা হলে আর আমরা কোথায় থাকব? আমাদের আর থাকার দরকারই বা কী?’’
উপাচার্য মতে, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কাজের উপর একছত্র নিয়ন্ত্রণ পেতে চায় ছাত্ররা, সব উপাচার্যকে নিয়েই ওঁদের সমস্যা। তবে পছন্দ কোন উপাচার্যকে? যারা ওঁদের কথা মতো সই করে যাবে? এই চেয়ারে বসে সম্মান কোথায়? সম্মান নেই বলেই ধর্নায় বসেছি।’’ একই সঙ্গে উপাচার্য এ-ও বলেছেন যে, ‘‘আমি সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যকে বলব আপনারা ঠিক করে দিন, কী ভাবে এখানে কাজ হবে?’’
বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ধর্নারত ইসি সদস্যদের কথা জানা গেলেও অবশ্য এ ব্যাপারে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জুটা জানিয়েছে, তারা এ ব্যাপারে শিক্ষকদের পাশে। কখনওই শিক্ষকদের অপমান সমর্থন করবে না তারা। তবে একই সঙ্গে জুটার সহকারী সম্পাদক রাজেশ্বর সিংহ জানিয়েছেন, ‘‘কয়েকজন ছাত্রকে দিয়ে সমস্ত ছাত্রের মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। যাঁরা এই কাজ করেছেন, তাঁরা সংখ্যায় অল্প। যাদবপুরে ১৩ হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই এমন ভাবেন না। তবে আশা করব ওই ছাত্রদেরও শীঘ্রই বোধোদয় হবে।’’
বৃহস্পতিবার যাদবপুরের ইসি সদস্যদের ধর্না নিয়ে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘ যাদবপুরে কী ঘটছে সেটা আমি খুব ভাসা ভাসা শুনেছি। ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু কোনও অধ্যাপককে চার অক্ষরে গালাগালি করা বা তুইতোকারি করাও কাম্য নয়। এটা আন্দোলনের কোনও বহিঃপ্রকাশ বা আন্দোলনের রাস্তা হতে পারে না। আমরাও ছাত্র বয়সে আন্দোলন করেছি। অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। কিন্তু কোন অধ্যাপককে কখনও তুইতোকারি করা বা চার অক্ষর বা পাঁচ অক্ষরে গালাগালি দিইনি। সব শিক্ষককে যেমন শ্রদ্ধা করা যায় না সে রকম সব ছাত্রকেও স্নেহ করা যায় না।’’