তথ্যচিত্র তৈরি-যন্ত্র আবিষ্কার, একাধিক কৃতিত্বে দেশি-বিদেশি পুরস্কার হুগলির কিশোরের

31st October 2023 11:55 am Country News
তথ্যচিত্র তৈরি-যন্ত্র আবিষ্কার, একাধিক কৃতিত্বে দেশি-বিদেশি পুরস্কার হুগলির কিশোরের


দুহাতে হাজার কাজ। একদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অন্যদিকে সিনেমা শিল্প। কিশোর বয়সে দু-দুটি যন্ত্র আবিষ্কার আর তথ্যচিত্র (Documentary) তৈরি। জোড়া কৃতিত্বে জোড়া পুরস্কার লাভ করে নজির গড়ল হুগলির (Hooghly) অভিজ্ঞান কিশোর দাস। পুরস্কারের মধ্যে একটি জাতীয়, অন্যটি আন্তর্জাতিক।আর দুয়ে মিলে ভালোই লক্ষ্মীলাভ হয়েছে অভিজ্ঞানের। সুসংবাদ তো বটেই, জোড়া পুরস্কারপ্রাপ্তিতে এবারের পুজোর মরশুমটা বিশেষ হয়ে উঠেছে তার কাছে।এবছর কেন্দ্রের 'জাতীয় মেধা সম্পদ' পুরস্কার লাভ করেছে চুঁচুড়ার (Chinsura) নারকেল বাগানের বাসিন্দা অভিজ্ঞান কিশোর দাস। পুরস্কার হিসেবে কিশোর বিজ্ঞানীর প্রাপ্তি হয়েছে একটি মেডেল, শংসাপত্র এবং ১ লক্ষ টাকা। আবার সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) ফিলাডেলফিয়া শহর থেকেও পুরস্কার পৌঁছেছে অভিজ্ঞানের কাছে। চিকিত্‍সা শাস্ত্রের পথিকৃত্‍ পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্তর জীবনী নিয়ে তার তৈরি তথ্যচিত্র এই পুরস্কার পেয়েছে। ফিলাডেলফিয়া অভিজ্ঞান পেয়েছে ২৫০ ডলার, মেডেল, শংসাপত্র, তিনটে মার্চেন্ডাইস টি-শার্ট ও বিচারকের লিখিত মূল্যায়ন।গত ১৩ অক্টোবর অর্থাত্‍ পুজোর ঠিক আগে নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে অভিজ্ঞানের হাতে 'জাতীয় মেধা সম্পদ পুরস্কার' তুলে দেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল। করোনা (Coronavirus) প্রতিরোধ এবং গাড়ির দূষণ হ্রাসকারী দুই পৃথক যন্ত্র আবিষ্কারের জন্য এই পুরস্কার প্রাপ্তি তার। এ ধরনের 'জাতীয় পুরস্কার' প্রাপক হিসেবে অভিজ্ঞানই কনিষ্ঠতম। এমনকি 'প্রথম বাঙালি' উদ্ভাবক বা আবিষ্কারকও (Inventor)সে।দেড় বছর আগে 'আধুনিক ভারতের সুশ্রুত - পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত' নামে একটি তথ্যচিত্র বানিয়েছে এই কিশোর বিজ্ঞানী তথা চিত্র-পরিচালক। মধুসূদন গুপ্ত ছিলেন আধুনিক ভারতের প্রথম শল্যচিকিত্‍সক (Surgeon)। হুগলি জেলার বৈদ্যবাটির বাসিন্দা ছিলেন তিনি। তাঁর হাত দিয়েই সূচনা হয় আধুনিক শল্যচিকিত্‍সার। ১৮৩৬ সালের ১০ জানুয়ারি তত্‍কালীন ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজে পণ্ডিত গুপ্ত প্রথম শব ব্যবচ্ছেদ করেছিলেন। অভিজ্ঞানের এই তথ্যচিত্রটি ইতিমধ্যে ১৫টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।