মহাশূন্যে প্রথম সূর্যের কিরণ রেকর্ড করল আদিত্য ISRO কি জানাল ?

9th November 2023 1:44 pm Country News
মহাশূন্যে প্রথম সূর্যের কিরণ রেকর্ড করল আদিত্য ISRO কি জানাল ?


ইসরোর সৌরযান আদিত্য এল১-এ থাকা এক্স রে স্পেক্ট্রোমিটার যন্ত্রটি এই প্রথম সূর্যের কিরণ রেকর্ড করল। ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উপগ্রহের এক্স রে যন্ত্রে রেকর্ড হওয়া সূর্যের কিরণের ডেটার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে ইসরোর যন্ত্রের ডেটা।জানা গিয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর ভারতীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে কোনও এক সময় এই কিরণ রেকর্ড করেছিল আদিত্য।জানা গিয়েছে, আদিত্য এল১-এ থাকা হাই এনার্জি এল১ অর্বিটিং এক্স রে স্পেক্ট্রোমিটার যন্ত্রটিকে গত ২৭ অক্টোবর চালু করা হয়েছিল। এই যন্ত্রটি ইসরোর ইউআর রাও স্যাটেলাইট সেন্টারে তৈরি করা হয়েছিল। সূর্যের শক্তিশালী এক্স রে কর্মকাণ্ড রেকর্ড করতে এই যন্ত্রটিকে ব্যবহার করা হবে। এই যন্ত্র যে ডেটা পৃথিবীতে পাঠাবে, তা থেকে বিজ্ঞানীরা সূর্যের শক্তি নিঃসরণ এবং ইলেক্ট্রনের গতিবিধি নিয়ে গবেষণা করতে পারবেন।উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে আদিত্য এল-১ মিশনের উত্‍ক্ষেপণ করে ইসরো। এরপর এটি একাধিকবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। পরে পৃথিবীর কক্ষপথকে বিদায় জানিয়ে মহাকাশে এল১ বিন্দুর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে আদিত্য। সেই যাত্রাপথের অনেকটাই পাড়ি দিয়ে ফেলেছে সৌরযানটি।ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত সৌরযানের হাল হকিকত স্বাভাবিক রয়েছে। সব যন্ত্রাংশ ঠিকঠাক আছে। সঠিক ভাবে কাজ করছে সবকিছুই। এই পরিস্থিতিতে নিজের গন্তব্যের উদ্দেশে এগিয়ে চলছে আদিত্য। জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নিজের 'ডেস্টিনেশন'-এ পৌঁছাবে ভারতের সৌরযান।সান-আর্থ সিস্টেমের হ্যালো অরবিটের ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট ১-এ পৌঁছতে এই আদিত্যকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে বলে জনিয়েছে ইসরো। পৃথিবী থেকে এই স্থান ১.৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে। এখান থেকে সূর্যের নানান তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে আশা ব্যক্ত কছেন বিজ্ঞানীরা। এই ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট ১-এ পৌঁছলে গ্রহণ-বিহীনভাবে সূর্যের ওপর নজরদারি চালাতে পারবে আদিত্য।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।