জিং পাথর ভেঙে জল নয়, তৈরি হল অক্সিজেন (Science News)। যে সে পাথর নয়, মঙ্গলগ্রহের বুক থেকে ছিটকে পড়া পাথর ভেঙে অক্সিজেন তৈরি করা হল। তবে বিজ্ঞানীরা নন, এই অসাধ্য সাধন করেছে চিনের বিজ্ঞানীদের হাতে তৈরি এক রসায়নবিদ রোবট (Robot Makes Oxygen fromMartian Rocks)। পৃথিবীর বাইরে লালগ্রহে বিকল্প বসতি গড়ে তুলতে যখন মরিয়া চেষ্টা চলছে, সেই সময়ই মঙ্গলগ্রহ থেকে আছড়ে পড়া পাথর ভেঙে অক্সিজেন তৈরি করে দেখাল ওই রোবট।পৃথিবীর বুকে বসে এই কাজ করে দেখিয়েছে রোবটটি, আগামী দিনে মঙ্গলে বসে এই কাজ করানোর চেষ্টা হবে তাকে দিয়ে। (Colonising Mars)সোমবার ‘নেচার সিন্থেসিস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বিষয়টি সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, কৃত্রিম যন্ত্রমেধা দ্বারা চালিত ওই রোবটের হাতে গুরুদায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়। মঙ্গলগ্রহের বুক থেকে ছিটকে পড়া পাথর, উল্কাখণ্ড তুলে দেওয়া হয় তার হাতে। লেজার স্ক্যানের সাহায্যে ওই সব পাথরের মধ্যে থাকা আকরিককে চিহ্নিত করে রোবটটি। এর পর, পাথরের মধ্যে থেকে ছ’টি পৃথক ধাতব উপাদান-লোহা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম এবং ক্যালসিয়াম থেকে প্রায় ৩৭ লক্ষ অণু তৈরি করে সে।এই গোটা পর্বে, কোনও মানুষ রোবটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে যাননি। বরং একাই ওই রোবটটি ২৪৩টি পৃথক অণুকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সে। তার মধ্যে থেকে সেরা অনুঘটকটিকে খুঁজে বের করে সে। দেখা যায়, মাইনাস ৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় জলের অণুর বিভাজন ঘটাতে সক্ষম ওই অনুঘটক। বিজ্ঞানীদের সাহায্য ছাড়া, মাত্র ছয় সপ্তাহে এই অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছে রোবটটি। সমস্ত অনুঘটককে পরীক্ষা করে, তার মধ্যে থেকে জল বিভাজক অণুটিকে শনাক্ত করতে মানুষের ২০০০ বছর লেগে যেত বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।ওই গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক তথা হেফেইয়ের ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অফ চায়নার বিজ্ঞানী জুন জিয়াং বলেন, “ছোট থেকেই সৌরগজতের বাইরে অভিযানের স্বপ্ন দেখতাম আমি। যখন রোবটটির তৈরি অনুঘটককে জল ভেঙে অক্সিজেন তৈরি করতে দেখলাম, মনে হল সেই স্বপ্ন বুঝি সত্যি হচ্ছে। আগামী দিনে মঙ্গলে বাস করার সুযোগ পাব বলে নিজেকে নিয়ে ভাবতেও শুরু করে দিয়েছিলাম।