২০০০ বছর সময় লেগে যেত মানুষের মঙ্গলের পাথর ভেঙে ৬ সপ্তাহে অক্সিজেন তৈরি করে দেখাল রোবট

15th November 2023 10:49 am Country News
২০০০ বছর সময় লেগে যেত মানুষের মঙ্গলের পাথর ভেঙে ৬ সপ্তাহে অক্সিজেন তৈরি করে দেখাল রোবট


জিং পাথর ভেঙে জল নয়, তৈরি হল অক্সিজেন (Science News)। যে সে পাথর নয়, মঙ্গলগ্রহের বুক থেকে ছিটকে পড়া পাথর ভেঙে অক্সিজেন তৈরি করা হল। তবে বিজ্ঞানীরা নন, এই অসাধ্য সাধন করেছে চিনের বিজ্ঞানীদের হাতে তৈরি এক রসায়নবিদ রোবট (Robot Makes Oxygen fromMartian Rocks)। পৃথিবীর বাইরে লালগ্রহে বিকল্প বসতি গড়ে তুলতে যখন মরিয়া চেষ্টা চলছে, সেই সময়ই মঙ্গলগ্রহ থেকে আছড়ে পড়া পাথর ভেঙে অক্সিজেন তৈরি করে দেখাল ওই রোবট।পৃথিবীর বুকে বসে এই কাজ করে দেখিয়েছে রোবটটি, আগামী দিনে মঙ্গলে বসে এই কাজ করানোর চেষ্টা হবে তাকে দিয়ে। (Colonising Mars)সোমবার ‘নেচার সিন্থেসিস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বিষয়টি সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, কৃত্রিম যন্ত্রমেধা দ্বারা চালিত ওই রোবটের হাতে গুরুদায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়। মঙ্গলগ্রহের বুক থেকে ছিটকে পড়া পাথর, উল্কাখণ্ড তুলে দেওয়া হয় তার হাতে। লেজার স্ক্যানের সাহায্যে ওই সব পাথরের মধ্যে থাকা আকরিককে চিহ্নিত করে রোবটটি। এর পর, পাথরের মধ্যে থেকে ছ’টি পৃথক ধাতব উপাদান-লোহা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম এবং ক্যালসিয়াম থেকে প্রায় ৩৭ লক্ষ অণু তৈরি করে সে।এই গোটা পর্বে, কোনও মানুষ রোবটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে যাননি। বরং একাই ওই রোবটটি ২৪৩টি পৃথক অণুকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সে। তার মধ্যে থেকে সেরা অনুঘটকটিকে খুঁজে বের করে সে। দেখা যায়, মাইনাস ৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় জলের অণুর বিভাজন ঘটাতে সক্ষম ওই অনুঘটক। বিজ্ঞানীদের সাহায্য ছাড়া, মাত্র ছয় সপ্তাহে এই অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছে রোবটটি। সমস্ত অনুঘটককে পরীক্ষা করে, তার মধ্যে থেকে জল বিভাজক অণুটিকে শনাক্ত করতে মানুষের ২০০০ বছর লেগে যেত বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।ওই গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক তথা হেফেইয়ের ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অফ চায়নার বিজ্ঞানী জুন জিয়াং বলেন, “ছোট থেকেই সৌরগজতের বাইরে অভিযানের স্বপ্ন দেখতাম আমি। যখন রোবটটির তৈরি অনুঘটককে জল ভেঙে অক্সিজেন তৈরি করতে দেখলাম, মনে হল সেই স্বপ্ন বুঝি সত্যি হচ্ছে। আগামী দিনে মঙ্গলে বাস করার সুযোগ পাব বলে নিজেকে নিয়ে ভাবতেও শুরু করে দিয়েছিলাম।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।